শিল্পাঞ্চল জঙ্গলাকীর্ণ, সমাজ আবর্জনাপূর্ণ, রাজনীতি অপরাধীময়, সমাজনীতি তোষণমূলক | মানুষ তাই মুক্তির অপেক্ষায়

এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে একজন মহিলা, সেটাই রাজ্যের বাকি মহিলাদের কাছে লজ্জার কারণ হয়ে উঠেছে | “মহিলারাই মহিলাদের প্রধান শত্রু হয়” – এইটা নেহাত কথার কথা নয় সেটা হারেহারে টের পাচ্ছেন সবাই | ক্ষমতায় আসার পর পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডে মানুষ আশা করেছিল যেহেতু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা তাই অপরাধীর চরম শাস্তি দেবেন | তা তো হলোই না, উল্টে তিনি ধর্ষিতা মহিলার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন | ‘সাজানো ঘটনা’ বললেন | কামদুনিতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল | মুখ্যমন্ত্রী প্রানপণ চেষ্টা করে গেলেন ধর্ষকদের রক্ষা করার | তারপর থেকে আজ পর্যন্ত যেখানে যত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তাতে পরোক্ষ মদত দিয়ে গেছে ঘাসফুল সরকার | রাজ্য সরকারের গুণধর ক্যাডাররা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ঘৃণ্য ঘটনাগুলির সাথে যুক্ত থাকে | বা কোনো সাধারণ ব্যক্তি এই ধরনের কীর্তি করে তৃনমূল দলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সেটার দৃষ্টান্তও আছে | নিজের দলের লুম্পেন লম্পটদের আড়াল করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকা | দলে চর, চোর, ধর্ষক, লম্পট, ডাকাতদের সংখ্যাই বেশি | এরাই দলের সম্পদ | ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে | সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে ছোট মাঝারি বড়, সব ধরনের নেতারাই এই ধরনের অপকর্মের সাথে যুক্ত | তৃনমূল নেত্রী এদের নিয়ে গর্বিত | মানুষ যদি কোনরকম ভাবেও বুঝতে পারত যে চুরি, জোচ্চুরি, অন্যায়, অত্যচার, মিথ্যাচারে তৃনমূল সিপিএম-এর থেকেও এগিয়ে যাবে, সিপিএম-এর চটি পরা পুলিশ নিয়ে তৃনমূল গ্রামে গ্রামে তাদের মেয়ে-বৌকে অত্যচার করবে, তাহলে হয়ত তারা কোনদিনই তৃনমূলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসতো না | টকের জ্বালায় পালিয়ে তারা কোনদিনই তেঁতুলতলায় বাস করতো না | মানুষ এবার তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে | মা-মাটি-মানুষের নাম করে মা-মাটি-মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বেশিদিন চলতে পারে না | মানুষ এই পরিবর্তন চায় নি | শুধুমাত্র পতাকার রং বদল হয়েছে | আর কিছু বদল হয় নি | “বদলা নয় বদল চাই” স্লোগানে “বদল” মানে যে শুধু পতাকার রং বদলের কথা বলা হয়েছিল সেটা আপামর জনগণ বুঝতে পেরেছে | বুদ্ধর পরে বুদ্ধ হলেও যা হত মমতা হয়েও তাই হচ্ছে |

বাম আমলে বিরোধীদের জব্দ করতে তাদের বাড়ির মেয়ে-বৌদের প্রতি যে লাঞ্ছনা, অত্যাচার আরম্ভ হয়েছিল, তৃনমূল রাজত্বে তা বন্ধ হয় নি, উল্টে বহুগুন বেড়েছে | বাম রাজত্বে পুলিশের যে ভূমিকা ছিল, তৃনমূল রাজত্বেও তাই আছে | রক্ষক নয় গত ৩৯ বছর ধরে পুলিশ ভক্ষকের ভূমিকাই পালন করে আসছে | পুলিশ-তৃনমূল যুগলবন্দীতে রাজ্যের মানুষের ওপর কিরকম অত্যাচার চলছে সেটা বীরভূমের বিজেপি কর্মীকে খুঁজে না পেয়ে তার কাকিমাকে পুলিশের নির্মম অত্যাচার থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে | এইরকম বহু ঘটনাতেই তত্কালীন বিরোধী নেত্রী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাতেন | এমনকি গঙ্গায় নৌকা উল্টে গেলেও তিনি সিবিআই তদন্ত দাবি করতেন | তার সেই মুখোশ মানুষ আজ বুঝতে পারছেন | তার ভন্ডামি এখন মানুষের কাছে ধরা পড়েছে | এই সরকারের বিদায় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র | মানুষ আর এই সরকারের কোনো প্রতিশ্রুতিতেই বিশ্বাস করে না | মানুষ বুঝেছে মমতাদেবী মাতব্বরি করতে যতটা অভ্যস্ত, উন্নতি করতে তার সিকি ভাগও নয় | বিরোধীনেত্রী হিসাবে বাওয়াল করতে তিনি যতটা পটু, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পারফর্ম করতে ঠিক ততটাই অযোগ্য |

মা-মাটি-মানুষের সরকার আজ মা-মাটি-মানুষের আশাপুরণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ | শিল্পাঞ্চল জঙ্গলাকীর্ণ, সমাজ আবর্জনাপূর্ণ, রাজনীতি অপরাধীময়, সমাজনীতি তোষণমূলক | মানুষ তাই মুক্তির অপেক্ষায় |

Please follow and like us:
0

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *