যে আইন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশের শত্রুরা ছুট পেয়ে যায়, সেই আইন, সংবিধানের কী মূল্য আছে ?

কথাগুলো পড়ার পরে নিজেকে রাজনৈতিক ভালো লাগা বা মন্দ লাগার জায়গা থেকে উপরে তুলে একজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসাবে দুবার ভেবে দেখার অনুরোধ জানাই৷ রাতে আর ঘুম হল না৷ বিজেপিকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এই দিনটা দেখার জন্য? মোদীজী, রাজনাথ সিং, অজিত ডোভালরা কোথায়? তাঁদের নাকের ডগায় বসে কমরেড বরাহনন্দন সেকুলারগুলো দেশকে টুকরো করার কথা বলবে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলবে আর ওনারা ঠুটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকবেন? কেন JNU-র এই দেশদ্রোহীদেরকে এখনও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিতে পারলো না কেন্দ্রের সরকার? কেন একজনকেও গ্রেফতার পর্যন্ত করলো না তারা? কিসের দ্বিধা? কিসের দ্বন্দ্ব? দেশের স্বার্থের সাথে এ কী ধরণের কমপ্রোমাইজ? এতক্ষণে হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া উচিত ছিল না হারামজাদাগুলোর? ভাড়মে যায় আইন, সংবিধান আর পলিটিকাল এথিকস্! যে আইন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশের শত্রুরা ছুট পেয়ে যায়, সেই আইন, সংবিধানের কী মূল্য আছে? তার আবার কিসের সম্মান? এতে কি এটাই প্রমাণিত হচ্ছে না যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দেউলিয়াপনার নিরীখে এই বিজেপি আর টিএমসি-র মধ্যে কোন ফারাক নেই? আর মোদী-মমতার মাঝেও কোন ফারাক নেই? মমতাই তো দেখছি তুলনামূলক ভাবে বেশী বিশ্বাসযোগ্য৷ কারণ সে সোজা ব্যাটে খেলছে একজন পেশাদার রাজনীতিকের মত৷ ভোট যার, আমি তার! পেশাদার ফুটবলাররা যেমন যে বেশী টাকা দেবে সেই দলে খেলে, পেশাদার রাজনীতিবিদরাও তেমন যারা বেশী ভোট দেবে স্বাভাবিকভাবেই তাদের হয়ে খেলবে৷ যাদের রাজনৈতিক দর্শন হল সুবিধাবাদ, তাদের পক্ষেই তো রঙ পাল্টানো সহজ! আন্ডার ওয়ার্লডে সততা হল একটা কাস্টোমারী ল’৷ তাই তাদের কথার হেরফের হয় না, তাদেরকে বিশ্বাস করা যায়৷ ঠিক সেই রকমভাবে আদর্শহীন, সুবিধাবাদী, পেশাদার রাজনীতিবিদদের কাছে তার সাপোর্ট বেসের প্রতি লয়ালটিও চুড়ান্ত৷ এ কোন নীতির ধার ধারে না৷ আরাবুলদের প্রত্যাবর্তনই এর প্রমাণ৷ এক্ষেত্রে তারা ১০০% সত, নির্লজ্জভাবে সত৷ বিজেপি তার হিন্দু জাতীয়তাবাদীতা সাপোর্ট বেসের প্রতি কতটা সততা দেখাতে পেরেছে? কেন রাম মন্দির, ৩৭০ ধারা, অভিন্ন দেওয়ানী বিধি, মুসলমানদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজও বিজেপি নীরব? মানছি সরকারের বিধি নিষেধ আছে৷ কিন্তু পার্টির? আজ JNU-র ক্ষেত্রে দেশদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে ফেলার ক্ষেত্রে সরকারও ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে! একদিকে তারা মুসলমান নেতাদের সাথে বৈঠক করছে, দেশের মুসলমানরা যাতে IS এ যোগ না দেয় তা বুঝানোর জন্য৷ অপরদিকে মুসলমানরা যে ইতিমধ্যেই IS কে ভারতে ডেকে এনেছে-এই সত্য গোপন করে বিবৃতি দিয়ে চলেছে যে ভারতের মুসলমানরা নাকি নিখাদ দেশপ্রেমিক! গান্ধি – নেহেরুরা এইভাবেই হিন্দুদের বুদ্ধু বানিয়ে দেশকে টুকরো করেছিল, আজ এরাও হিন্দুদের একই রকমভাবে বুদ্ধু বানিয়ে চলেছে৷ রাজনৈতিক কৌশলের দোহাই দিয়ে হিন্দুকে বোকা বানানোর এই ছকই শেষ পর্যন্ত বিজেপির সাথে সাথে মোদীজিকেও ডুবিয়ে ছাড়বে৷ সোস্যাল মিডিয়ার চাপে কালকেই হয়তো সরকার গরম গরম বিবৃতি দেবে, কোন পদক্ষেপও হয়তো নেবে৷ কিন্তু আর ভরসা করতে পারছি না৷ তাই আজ, এই মুহূর্ত থেকে সিদ্ধান্ত নিলাম, আর কোন আদর্শের বুলি কপচানো পার্টির উপরে ভরসা বা বিশ্বাস নয়৷ বরং হিন্দুদেরকে ১০০% পেশাদার ভোটার বানানোর জন্য জী-জান লাগিয়ে কাজ করবো৷

Please follow and like us:
0

Be First to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *